ইসলামিক দিক নির্দেশনা

কবরের জীবন pdf বই, দোয়া,গজল ও ভিডিও – কবরের আজাব কেন হয়

মৃত্যুর পরবর্তী থেকে শুরু করে হাশরের ময়দানে পূর্ব পর্যন্ত সময়টাকে বলা হয় বারযাখ বা কবরের জীবন। এ থেকে বোঝা যায় একজন মানুষ মারা গেলে যদি তাকে ইসলামিক রীতিনীতি না মেনে পোড়ানো হয় বা ভেসে দেওয়া হয় অথবা মৃত লাশের খাবার হয়ে যায় তারপরও এই সময়টা তার কবরের জীবন হিসেবে অতিবাহিত হবে। এ থেকে আমরা বুঝতে পারি কোন ব্যক্তি যদি গুনাগার হয় এবং তাকে যদি কবরস্থ করা না হয় যদি পুড়িয়ে ফেলা হয় বা পানিতে ভেসে দেওয়া হয় তার পরেও তাকে কবরের শাস্তি ভোগ করতে হবে, একইভাবে কোন ব্যক্তি যদি আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলে তার প্রিয় বান্দা হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন সেক্ষেত্রে তিনি জান্নাতের আরামপ্রিয় জীবন উপভোগ করবেন।

কবরের আযাব কেন হবে

প্রত্যেক ব্যক্তির কবরে প্রথম ধাপ শুরু হবে দুইজন ফেরেশতা জিজ্ঞাসাবাদের পর্ব দিয়ে, মৃত ব্যক্তিকে কবর দেওয়ার পর সবাই যখন চলে যাবে, সব কবর থেকে 40 কদম দূরে যাওয়ার পরেই আল্লাহতালার দুজন ফেরেশতা মুনকার-নাকির এসে হাজির হবেন কবরের ব্যক্তির নিকট। তারা তাকে উঠিয়ে বসাবেন এবং চারটি প্রশ্ন করবেন, মৃত্যুর পরে প্রত্যেক ব্যক্তিকে এই একই চারটি প্রশ্ন করা হবে যদি ওই ব্যক্তি দুনিয়াতে আল্লাহ তায়ালা আদেশ মেনে চলে তাহলে উক্ত ব্যক্তি কবরের এই সাওয়ালের জবাব দিতে সক্ষম হবে। আর যদি ওই ব্যক্তি দুনিয়াতে আল্লাহ তায়ালার আদেশ মেনে অন্যায়ের পথে চলে এবং গুনাহগার হয় সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি কবরের জবাব দিতে পারবে না। কবরের চারটি প্রশ্ন গুলো হলঃ, প্রথম প্রশ্ন করা হবে তোমার রব কে? দ্বিতীয় প্রশ্ন করা হবে তোমার দ্বীন কি? তৃতীয় প্রশ্ন করা হবে তোমার নবী কে? এবং সর্বশেষ চতুর্থ প্রশ্ন করা হবে তুমি এইসব কোথা থেকে জানলে?

যদি উক্ত ব্যক্তি চারটি প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারে তবে তার কবর থেকে জান্নাত পর্যন্ত একটি রাস্তা করে দেয়া হবে যার ফলে সে জান্নাতে সুগন্ধ এবং সৌন্দর্য অবলোকন করতে পারবে এবং হাশরের দিন পর্যন্ত ঘুমিয়ে কাটাবে। আর যদি ওই ব্যক্তি চারটি প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম না হয় তবে তা কবর থেকে জাহান্নাম পর্যন্ত একটি রাস্তা করে দেয়া হবে সে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে এবং কবরের শাস্তি ভোগ করবে। কবরের শাস্তি হিসেবে প্রতিটি পাপের জন্য আলাদা আলাদা শাস্তি দেওয়া হবে যেমন বিষাক্ত সাপের কামড়, বিচ্ছু কামড়, আগুনের ভিতর নিক্ষেপ এছাড়া আরো অনেক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাকে দেওয়া হবে।

কবরের আজাব থেকে মুক্তির দোয়া ও সুরা মুলক

মৃত্যুর পরবর্তী জীবনে হচ্ছে কবরের জীবন যা আখিরাতের প্রথম ধাপ, আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম কবরের জীবন সম্পর্কে বলেছেন মানুষের জন্য কবরের জীবন হচ্ছে সবচেয়ে একাকী এবং ভয়ংকরতম স্থান, এবং পাপীষ্ঠ ব্যক্তিদের জন্য সবচেয়ে কষ্টকর এবং ভয়ঙ্কর যন্ত্রণাদায়ক স্থান হবে কবর। নবী-রাসূল এবং সাহাবীদের সময় কবরের জীবনকে ভয় পেতেন এবং কবরের জীবন নিয়ে আল্লাহর নিকট দোয়া ও প্রার্থনা করতেন এবং তা আল্লাহর মাগফেরাত কামনা করতেন।

ওলামায়ে কেরামগণ কবরের জীবন সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন মানুষের জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এমনকি জাহান্নামের চেয়েও বেশি যন্ত্রণাদায়ক জীবন হতে পারে কবরের জীবন যদি সে ব্যক্তি গুনাগার হয় বা কবরের সাওয়ালের জবাব দিতে না পারে। মানবতার কান্ডারী, বিশ্বনবী মোস্তফা সাল্লাল্লাহু সাল্লাম কবরের জীবন সম্পর্কে আরো বলেছেন তোমরা আল্লাহর কাছে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় তাও, তিনি কথাটির গুরুত্ব বোঝাতে একবার নয় পরপর তিনবার পুনরাবৃত্তি করেছেন। নিম্নে কবরের দোয়া টা তুলে ধরা হলো-

কবরের আজাব থেকে মুক্তি পেতে এই দোয়ার পাশাপাশি আরো যে কাজগুলো করতে হবে
  •  প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মত আদায় করতে হবে।
  • বেশি বেশি দান-সাদকা করতে হবে।
  • কোরআন তেলাওয়াত এবং হাদিস করতে হবে।
  •  বেশি বেশি তসবি পাঠ করা এবং নফল ইবাদত করতে হবে।

আর যে কাজ গুলো এড়িয়ে চলতে হবে

  1.  কখনো মিথ্যা কথা বলা যাবে না সবসময় সত্য কথা বলতে হবে।
  2.  অপরের সম্পদ আত্মসাৎ করা যাবে না অর্থাৎ অন্যের হক নষ্ট করা যাবে না।
  3. পেশাবের সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন শরীরে পেশাব না লাগে।

কবরের আজাবের ভিডিও

আমাদের কে অনেকেই কবরের আজাবের গজল ও ভিডিও সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন। তাই তাদের অনুরোধে আজকে আমরা আপনাদের জন্য কিছু কবরের গজল ও ভিডিও নিয়ে এসেছি আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। কবরের আজাবের গজল ও ভিডিও নিচে দেয়া হল,

Rahat Ali

I'm Rahat Ali here with you. I write about Informative content. If you are looking for Education, Travel, Telecom, official contact info of any Company, Organization, or Person, let's read my content on this website.
Back to top button
Close