ই পর্চা

জমির মৌজাম্যাপ থেকে জমির দাগ ও খতিয়ান অনলাইনে দেখার নিয়ম

জমির খতিয়ান হলো জমির তথ্য বহুল একটি বই, যেখানে জমির দখলকৃত মালিকানা স্বত্বের নাম, মালিক এর পিতা বা স্বামীর নাম, মালিকের ঠিকানা বিভাগ, জেলা, থানা, ইউনিয়ন, গ্রাম, ও জমির মৌজা উল্লেখ থাকে, এছাড়া জমি আকৃতি ও জমির পরিমাণ উল্লেখ থাকে। এ থেকে বোঝা যায় জমির খতিয়ান হলো জমির যাবতীয় তথ্যাবলী অর্থাৎ মালিকানা স্বত্বের সমস্ত তথ্য এখানে সংরক্ষিত থাকে। জমির খতিয়ান নম্বর হলো এক কথায় বললে জমির পরিচয়, জমির খতিয়ান নম্বর দাগ নম্বর যদি কোন ভুল হয় তাহলে জমির অবস্থান ভুল হবে, অর্থ জমির খতিয়ান নম্বর ছিল হাজার 1940 কিন্তু ভুলক্রমে হয়ে গেল 1904 সে ক্ষেত্রে আপনার জমি, হাজার 940 নম্বর জমি না দেখিয়ে হাজার 904 নম্বর জমির অবস্থান দেখাবে অর্থাৎ অন্য কোন জমি দেখাবে। জমির দাগ নম্বর খতিয়ান নম্বর হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় জমি কেনাবেচার অবশ্যই যে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত তাহলে জমির খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর।

বি,এস খতিয়ান কি

এখন পর্যন্ত জমির তিনটি খতিয়ান চলমান, জমির খতিয়ান ছিল সিএস খতিয়ান অর্থাৎ, ভারত উপমহাদেশ ব্রিটিশ শাসনামলে যে খতিয়ান প্রণয়ন করেছিল দীর্ঘ 10 বছর ধরে অর্থাৎ1910 সাল থেকে1920 সাল পর্যন্ত এই খতিয়ান তৈরি করা হয়। এরপর 1998 থেকে 1999 সালে নতুন একটি খতিয়ান তৈরি করা হয় এই খতিয়ান বিএস খতিয়ান, বি এস খতিয়ান এর কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।

জমির মৌজাম্যাপ থেকে দাগ দেখুন

জমির খতিয়ান তোলার ক্ষেত্রে আপনি যে কোন ইউনিয়ন পরিষদের ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র থেকে অথবা জেলা অফিসে জেলা ই সেবা কেন্দ্র থেকে এই সেবাটি গ্রহণ করতে পারে। বর্তমানে জেলা ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে আপনি নিজে আপনার জমির খতিয়ান তুলতে পারবেন সেক্ষেত্রে আপনাকে যে ধাপগুলো অতিক্রম করতে হবে তা আমরা নিম্নে তুলে ধরেছি।

অনলাইনে খতিয়ান দেখা

  1. প্রথমত আপনাকে আপনার মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে যে কোন একটি ব্রাউজার এ প্রবেশ করতে হবে। এরপর উপরে বর্ণিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আপনার পছন্দের সেবাটি গ্রহণ করতে হবে, অর্থাৎ নাগরিক কর্নার বাটনে ক্লিক করুন তারপর সেখান থেকে আপনার প্রয়োজনীয় সেবা অর্থাৎ ই-পর্চা তে ক্লিক করুন।

2. ই-পর্চা তে প্রবেশ করার পর সেখানে আপনি আপনার জমির যাবতীয় তথ্যাবলী যাচাই-বাছাই করতে পারবেন, যেহেতু আপনি আপনার জমির খতিয়ান বলতে চাচ্ছেন সে ক্ষেত্রে আপনি খতিয়ান এর উপর ক্লিক করুন।

3. এবার এবার দেখুন আপনার কাছে একটি অপশন চাওয়া হচ্ছে আপনি কি খতিয়ান চাচ্ছেন, এবার আপনি যে খতিয়ান চান অর্থাৎ যদি আর এস খতিয়ান চান তাহলে আর এরও খতিয়ান আর যদি সি এস খতিয়ান তাহলে সিএস খতিয়ান এ ক্লিক করুন।

4. এবার আপনার সামনে একটি ফরম দেখা যাবে, ফরমটি সঠিকভাবে পূরণ করুন, অর্থাৎ আপনার স্থায়ী ঠিকানার যাবতীয় তথ্য দিতে হবে যেমন আপনার নাম, বিভাগ, জেলা,, উপজেলা, ইউনিয়ন, গ্রাম, ও মৌজা। এই সকল তথ্য দেওয়ার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন আপনার দেওয়া যাবতীয় তথ্য সম্পূর্ণ নির্ভুল এবং আপনার নিজের। অন্যথায় আপনি ভুল ফলাফল পাবেন।

5. এবার আপনি দেখুন আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আপনার ক্ষতি আন্টি আপনার সামনে চলে এসেছে, এবার আপনি আপনার খতিয়ানটি কম্পিউটার থেকে অনলাইন কপি প্রিন্ট আউট করে নিতে পারেন।

6. যদি আপনি আপনার খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি পেতে চান তাহলে আপনাকে জেলা সেবা কেন্দ্রে একটি আবেদন করতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনাকে আপনার মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয় পত্রে আপনার নাম, আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর, জন্মতারিখ আপনার ইমেইল টি সরবরাহ করতে হবে। আবেদনের কিছুদিনের মধ্যেই আপনি আপনার খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি ডাকযোগে পাবেন।

আমাদের লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই মন্তব্য করে জানাবেন, আপনার জিজ্ঞাসা থাকলে আমাদের পেইজে মন্তব্য করে জানান আমরা আপনাদেরকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। এরকম আরো ভালো ভালো পোস্ট পেতে আমাদের পেজটি ফলো দিয়ে রাখো।

Rahat Ali

I'm Rahat Ali here with you. I write about Informative content. If you are looking for Education, Travel, Telecom, official contact info of any Company, Organization, or Person, let's read my content on this website.
Back to top button
Close